মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে মানবজাতির আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (James Webb Space Telescope) মহাকাশে পাঠানোর পর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একের পর এক নতুন ও বিস্ময়কর তথ্য আবিষ্কার করছেন। সম্প্রতি এই শক্তিশালী টেলিস্কোপ আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বাইরে এমন একটি 'সুপার আর্থ' গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যা নতুন করে এলিয়েন জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে কৌতূহল বাড়িয়েছে।
'সুপার আর্থ' কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
'সুপার আর্থ' বলতে সেইসব গ্রহকে বোঝানো হয়, যা আমাদের পৃথিবীর চেয়ে আকারে কিছুটা বড় কিন্তু নেপচুন বা ইউরেনাসের মতো গ্যাসীয় গ্রহের চেয়ে ছোট। বিজ্ঞানীরা এমন গ্রহের সন্ধান করছেন, যেখানে তরল পানি এবং প্রাণের বিকাশের অনুকূল পরিবেশ থাকতে পারে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেই নতুন 'সুপার আর্থ'-এর সন্ধান দিয়েছে, সেটি তার নক্ষত্রের 'বাসযোগ্য অঞ্চল' (Habitable Zone)-এ অবস্থিত, অর্থাৎ সেখানে প্রাণের টিকে থাকার মতো তাপমাত্রা থাকতে পারে।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের ভূমিকা:
২০২১ সালে উৎক্ষেপিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ তার অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাবিশ্বের গভীরতম প্রান্তের ছবি তুলতে সক্ষম। এটি তার পূর্বসূরি হাবল টেলিস্কোপের চেয়েও হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। এই টেলিস্কোপের মাধ্যমেই বিজ্ঞানীরা এখন দূরবর্তী এক্সোপ্ল্যানেটগুলোর বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করতে পারছেন, যা আগে সম্ভব ছিল না। নতুন এই 'সুপার আর্থ'-এর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন বা মিথেনের মতো গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা এখন বিজ্ঞানীদের প্রধান লক্ষ্য। এই ধরনের গ্যাস প্রাণের অস্তিত্বের একটি শক্তিশালী নির্দেশক হতে পারে।
মহাবিশ্বের অন্য কোথাও কি জীবন আছে?
এই আবিষ্কার মানবজাতিকে সেই চিরায়ত প্রশ্নের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে—"মহাবিশ্বের অন্য কোথাও কি জীবন আছে?" যদি এই 'সুপার আর্থ' গ্রহে তরল পানি এবং প্রাণের অনুকূল পরিবেশ প্রমাণিত হয়, তবে এটি মহাকাশ গবেষণায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিজ্ঞানীরা এখন গ্রহটির আরও বিশদ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যাতে এর সঠিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করা যায়।
এই গবেষণা শুধু নতুন গ্রহের সন্ধানই দিচ্ছে না, বরং মহাবিশ্বে আমরা কতটা একা, সেই দার্শনিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


Post A Comment:
0 comments: