উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বর্তমান সময়ে একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে একটি বড় অংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, যার অনেকেরই তা অজানা। রক্তচাপ যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে এবং দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকে, তখন তা হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। লক্ষণ দেখা না দিলেও এটি শরীরের ভেতরটা কুরে কুরে খায়, তাই একে বলা হয় 'নীরব ঘাতক' বা 'সাইলেন্ট কিলার'।
উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ:
অতিরিক্ত লবণ: খাবারে লবণের ব্যবহার বেশি করলে তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।
শারীরিক অলসতা: নিয়মিত ব্যায়াম না করা এবং ওজনাধিক্য রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
মানসিক চাপ: দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস সরাসরি রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলে।
বংশগত: পরিবারের কারও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অন্যদেরও এটি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ধূমপান ও মদ্যপান: এই অভ্যাসগুলো রক্তনালী সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়ায়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়:
১. ড্যাশ ডায়েট (DASH Diet): পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল, সবজি এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্যাকেটজাত নাস্তা এড়িয়ে চলুন।
২. লবণ কমান: প্রতিদিনের খাবারে লবণের পরিমাণ এক চা চামচের নিচে রাখার চেষ্টা করুন। পাতে বাড়তি লবণ খাওয়ার অভ্যাস আজই বর্জন করুন।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ওজন বজায় রাখলে রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন। এটি হৃদপিণ্ডকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মন ভালো রাখা: মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমান এবং মেডিটেশন বা পছন্দের কাজ করে মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।
আপনার রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করান। যদি আপনি আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের রোগী হয়ে থাকেন, তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই ঔষধ বন্ধ করবেন না। সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমেই এই নীরব ঘাতককে রুখে দেওয়া সম্ভব।


Post A Comment:
0 comments: