জীবনের পথ সবসময় মসৃণ হয় না। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলামের দৃষ্টিতে, এই বিপদ-আপদগুলো শুধু কষ্টের নয়, বরং তা মানুষের জন্য এক পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ‘সবর’ বা ধৈর্য।
‘সবর’ শুধুমাত্র চুপচাপ কষ্ট সহ্য করা নয়, বরং এর অর্থ আরও গভীর। ইসলামে ধৈর্যের তিনটি প্রধান দিক রয়েছে:
১. আল্লাহর ইবাদত ও হুকুম পালনে ধৈর্য: শত কষ্ট বা অলসতা সত্ত্বে আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদতসমূহ (যেমন: নামাজ, রোজা, হজ) নিষ্ঠার সাথে নিয়মিত পালন করা।
২. পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে ধৈর্য: শয়তানের প্ররোচনা এবং কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব না করে আল্লাহর ভয়ে অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে নিজেকে সংযত রাখা।
৩. বিপদ-আপদে ধৈর্য: যেকোনো দুঃখ, অভাব, অসুস্থতা বা প্রিয়জন হারানোর ব্যথায় বিচলিত না হয়ে, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে শান্ত থাকা।
আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে ধৈর্যের গুরুত্ব ও এর প্রতিদানের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সূরা আল-বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন:
“হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৫৩)
এই একটি আয়াতই ধৈর্যের অসীম মর্যাদার প্রমাণ দেয়। যখন কোনো ব্যক্তি বিপদে পড়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে শান্ত থাকে, তখন সে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সাহায্য লাভ করে। হাদিসেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “ধৈর্য হলো এক জ্যোতি।” (সহিহ মুসলিম)
ধৈর্যশীল ব্যক্তির জন্য রয়েছে অশেষ প্রতিদান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে।” (সূরা আয্-যুমার: ১০)
জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে আমাদের রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং পূর্ববর্তী নবীগণের জীবনী থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তারা কীভাবে অকল্পনীয় কষ্টের মাঝেও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে সবর করেছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। যখনই কোনো কষ্ট আমাদের স্পর্শ করবে, আমরা যেন হতাশা বা হাহাকার না করে বলি: “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন” (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী)। এই সহজ বাক্যটি বলার মাধ্যমে আমরা নিজেদের আল্লাহর কাছে সঁপে দিই এবং প্রশান্তি লাভ করি।
আসুন, আমরা আমাদের জীবনে ধৈর্যের চর্চা করি। সুখের সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি এবং দুঃখের সময় সবর করি। কারণ, সবরের ফল হয় অত্যন্ত মধুর এবং তা আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথে নিয়ে যায়।


Post A Comment:
0 comments: