এক সময় সেলিব্রিটি মানেই ছিল রুপালি পর্দা বা টেলিভিশনের তারকা। তাদের জীবনযাপন ছিল সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থান সেই চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এখন ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো জন্ম দিচ্ছে নতুন প্রজন্মের 'ইনফ্লুয়েন্সার'দের, যারা শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তিগত জীবন বা শখের বিষয়বস্তু দিয়ে লাখো মানুষকে প্রভাবিত করছেন। এই সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সাররা এখন শুধু বিনোদন জগত নয়, ফ্যাশন থেকে শুরু করে জীবনযাপন, এমনকি পণ্যের প্রচারেও রাখছেন বিশাল ভূমিকা।
সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের নতুন প্রভাব:
১. ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ট্রেন্ডের নির্মাতা: এখন কোনো পোশাক, মেকআপ বা গ্যাজেট ট্রেন্ডে আসার জন্য তারকাদের মুখ নিঃসৃত কোনো উক্তি নয়, বরং তাদের ইনস্টাগ্রাম পোস্টই যথেষ্ট। ইনফ্লুয়েন্সাররা তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার মাধ্যমে নতুন ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ট্রেন্ড তৈরি করছেন, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে।
২. পণ্য প্রচারে ব্যাপক ভূমিকা: ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে এখন অনেক ব্র্যান্ড সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করছে তাদের পণ্যের প্রচারে। তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা সুপারিশ অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা পায় দর্শকদের কাছে, যা বিক্রিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
৩. বিনোদন জগতের সম্প্রসারণ: শুধুমাত্র অভিনেতা বা গায়ক-গায়িকারা নন, এখন ইউটিউবার, ব্লগার, গেমিং স্ট্রিমার বা ফিটনেস এক্সপার্টরাও বিশাল সংখ্যক ফলোয়ার তৈরি করে সেলিব্রিটির মর্যাদা পাচ্ছেন। তারা নিজস্ব উপায়ে বিনোদন প্রদান করছেন এবং তাদের ভক্তদের জন্য এক নতুন জগত তৈরি করছেন।
৪. সরাসরি ভক্তদের সাথে সংযোগ: সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারকারা এখন তাদের ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন, তাদের মতামত জানতে পারছেন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দিতে পারছেন। এটি ভক্তদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে এবং তাদের মধ্যে একাত্মবোধ তৈরি করছে।
সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিনোদন জগতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তারা কেবল তারকা নন, বরং সংস্কৃতি, ফ্যাশন এবং মানুষের পছন্দের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলা এক নতুন শক্তি।


Post A Comment:
0 comments: