বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, মারধর এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলমের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই আদেশ প্রদান করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ:
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ মে সাদিয়া রহমান মিথিলা (২৭) নামের এক যুবতী বাদী হয়ে হিরো আলমের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ছোট পর্দার নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে হিরো আলম বাদীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং নামমাত্র বিয়ে পড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া করে তারা সংসার শুরু করেন।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, শর্ট ফিল্ম তৈরির অজুহাতে হিরো আলম তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে বিয়ের কাবিননামার জন্য চাপ দিলে হিরো আলম তাকে বগুড়ার বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেখানে বাদীর গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
শারীরিক নির্যাতন ও তদন্ত প্রতিবেদন:
এজাহারে বলা হয়, সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল হিরো আলম তাকে প্রচণ্ড মারধর করেন। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তার গর্ভপাত ঘটে। পরবর্তীতে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২০ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত গত ১০ ফেব্রুয়ারি হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
বর্তমান অবস্থা:
পরোয়ানা জারির পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বুধবার জামিন শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন পুনরায় নামঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট আলী আজগার এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নুরুল আলম খোকন।


Post A Comment:
0 comments: