পবিত্র কুরআন ও হাদিসে জ্ঞান অর্জন এবং শিক্ষার প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গভীর। ইসলামের প্রথম নির্দেশই ছিল ‘ইকরা’ (পড়ো), যা প্রথম ওহীর মাধ্যমে নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। এই নির্দেশ শুধুমাত্র ধর্মীয় জ্ঞান নয়, বরং দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকারী জ্ঞান অর্জনের ইঙ্গিত দেয়।
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন।” (সূরা আল-মুজাদালাহ: ১১)
এই একটি আয়াতের মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি যে, জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে একজন মুমিন শুধুমাত্র আল্লাহর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে না, বরং দুনিয়াতেও সম্মানিত হতে পারে। মহানবী (সাঃ) জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। হাদিসে বলা হয়েছে:
“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)
ইসলামিক সোনালী যুগে (Golden Age of Islam) মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান বিজ্ঞান ও আধুনিক সভ্যতার ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ। ইবনে সিনা (মেডিসিন), আল-খারিজমি (বীজগণিত), এবং ইবনে আল-হাইথাম (আলোকবিদ্যা) এর মতো বিজ্ঞানীরা ইসলামের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে বিজ্ঞান ও গবেষণার এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, জ্ঞান শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়, বরং তা মানবজাতির কল্যাণে প্রয়োগ করা উচিত।
আধুনিক যুগেও ইসলামের এই শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শিক্ষা, গবেষণা এবং সামাজিক উন্নয়নে ইসলামের শিক্ষার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা এক উন্নত ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারি। জ্ঞান হলো মুমিনের হারানো সম্পদ; এটি অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হওয়া সম্ভব।
আসুন, আমরা আমাদের জীবনে জ্ঞান অর্জনের চর্চা বৃদ্ধি করি। কুরআনের আলো এবং বিজ্ঞানের সুফল গ্রহণ করে আমরা এক উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।


Post A Comment:
0 comments: