মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে শুরু করেছে তেহরান। বুধবার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই প্রতিশোধমূলক অভিযানে অন্তত ১০০ মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি করেছে ইরান।
আইআরজিসি-র এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়, কুয়েতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-উদাইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে দুটি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ঘাঁটির একাংশ। আহত সেনাদের উদ্ধার করে দ্রুত আল-জাবের ও আল-মুবারক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুধু কুয়েত নয়, ইরানি ড্রোন ও মিসাইলের লক্ষ্যবস্তু ছিল বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও। সেখানে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
একই সময়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয় ঘটিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। তেল আবিব ও হাইফার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’ এবং কুখ্যাত সাইবার ইউনিট ‘৮২০০’-এর সদর দপ্তরে মুহুর্মুহু ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ ‘গ্রিন পাইন’ রাডার ব্যবস্থাও ইরানি ড্রোন আঘাতে অচল হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ‘অবশেষ উপস্থিতি’ এবং অপরাধী জায়োনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ততক্ষণ চলবে, যতক্ষণ না শত্রু পক্ষ সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে এক মহাযুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি


Post A Comment:
0 comments: